Notice

তথ্যপ্রযুক্তির বিশ্বমেলা

technology fair-uttarazoneনানা চেহারার মানুষের এ যেন মিলনমেলা। পাঁচ দিনের মেলার শেষ দিনও তার ব্যত্যয় হলো না, সুবিশাল ৮ নম্বর হলে কার্পেট বিছানো মেঝেতে বিশ্বের নানা দেশ থেকে আসা তথ্যপ্রযুক্তি খাতে জড়িত ৬০০ ব্লগারের বিশ্ব সম্মেলন বসেছিল সেদিন। নাম দেওয়া হয়েছে ‘মেক ব্লগ নট ওয়ার’। তথ্যপ্রযুক্তির নানা ভালো-মন্দ এবং এর প্রসার ও উন্নয়নের নানা পন্থা নিয়ে লিখেছেন ব্লগাররা। লিখেছেন সমাজ অর্থনীতিকে ডিজিটাল করে কীভাবে পণ্যের প্রসার ও ভোক্তামুখী করা যায়, তথ্যভান্ডার আরও সুরক্ষিত হতে পারে কীভাবে কিংবা ডিকোনমি (ডিজিটাল অর্থনীতি) কীভাবে সার্বিক উন্নয়নে ভূমিকা রাখবে ইত্যাদি। তথ্যপ্রযুক্তির প্রভাব মানুষের আর্থসামাজিক জীবনে যেভাবে পড়ছে, সুফলের সঙ্গে আনছে বিড়ম্বনাও। একে বলা হচ্ছে ‘ডিজিটাল ডিপ্রেশন’। প্রযুক্তি-সংক্রান্ত হতাশা বোধ থেকে মুক্তি পাওয়ার নানা প্রস্তাব ও উপায়ও বাতলে দেন ব্লগাররা।
১৭৫ হাজার বর্গমিটার জায়গাজুড়ে জার্মানির হ্যানোভারে পাঁচ দিনের ৩২তম সিবিট মেলার আয়োজন করা হয়েছিল ২৪টি বড় বড় হলে। অংশ নিয়েছে প্রায় ৭০টি দেশের ৩ হাজার ৩০০টি তথ্যপ্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান। এবারের মেলার সহযোগী দেশ ছিল সুইজারল্যান্ড। সিবিটের ৩ নম্বর হলে বাংলাদেশ থেকে রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর প্যাভিলিয়নে চারটি প্রতিষ্ঠান এবং ৬ নম্বর হলে নেদারল্যান্ডসভিত্তিক সিবিআই থেকে তিনটি ও সুইজারল্যান্ডভিত্তিক আইটিসি থেকে তিনটি—এই মোট দশটি প্রতিষ্ঠান অংশ নিয়েছে মেলায়। জার্মানভিত্তিক বাংলাদেশি অনাবাসীদের দুটি প্রতিষ্ঠানও মেলায় অংশগ্রহণ করেছে।
‘ডিকোনমি’ শিরোনামে তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবসায় আরও নতুন পরিসর খুঁজতে জার্মানির হ্যানোভার শহরে এই ঐতিহ্যবাহী মেলা বিশ্বের বৃহত্তম তথ্যপ্রযুক্তি মেলা হিসেবে বিবেচিত। গত বছরের মেলায়ও মূল প্রতিপাদ্য ছিল ‘ডিকোনমি’। অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড ও কাঠামোকে ডিজিটালাইজেশনে রূপান্তরের মাধ্যমে কীভাবে আরও সহজ ও বাস্তবসম্মত করা যেতে পারে, আর সেই উপস্থাপনা ও উদ্দেশ্য নিয়েই ১৪ থেকে ১৮ মার্চ হ্যানোভারে উপস্থিত হয়েছিলেন সারা বিশ্বের প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ ও ব্যবসায়ীরা।
এই ‘ডিকোনমি’ শিরোনামে মেলার পাদপ্রদীপে যে বিষয়গুলো নিয়ে উদ্যোক্তারা তাঁদের সবিশেষ প্রযুক্তির প্রদর্শন দেখিয়েছেন তা হলো ক্লাউড কম্পিউটিং, প্রযুক্তি সুরক্ষা, শিল্পে মোটরযান ব্যবসা, বাণিজ্যিক লেনদেন, মোবাইল কম্পিউটিং, সামাজিক ব্যবসা প্রভৃতিতে ডিজিটালাইজেশন ও ডিকোনমি লজিস্টিকের সবিশেষ উন্নয়ন।
তথ্যপ্রযুক্তির এই মেলায় ছিল আধুনিক উচ্চক্ষমতার ড্রোন, নিজস্ব অনুভূতিযুক্ত স্বয়ংক্রিয় যন্ত্র, নানা কার্য সম্পাদনে পারদর্শী আধুনিক রোবট, তেমনি মেলায় ছিল যান্ত্রিক কলাকৌশলের বিশেষ উন্নতির প্রদর্শন।
ডিকোনমি খাতে ২০২০ সালের মধ্যে ৫০ বিলিয়ন প্রযুক্তির যন্ত্র ইন্টারনেট অব থিংস ধারণায় যুক্ত হবে। বিশ্বজুড়ে কীভাবে এগুলো একে অপরের সঙ্গে সংযুক্ত ও ব্যবহৃত হবে, তার পরিসংখ্যান দেখানো হয়েছে মেলায়।
সিবিটে বাংলাদেশ
সিবিট মেলায় বাংলাদেশ পুরোনো নাম। বেশ কয় বছর হলো এ মেলায় যোগ দিচ্ছে বাংলাদেশি প্রতিষ্ঠান। এবারও বাংলাদেশ সরকারিভাবে মেলায় যোগ দিয়েছে। মেলায় বাংলাদেশ থেকে রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো এবং বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব সফটওয়্যার অ্যান্ড ইনফরমেশন সার্ভিসেস (বেসিস) যৌথভাবে সিবিট মেলায় ৬ নম্বর হলে, ‘বাংলাদেশ নেক্সট আইটি ডেসটিনেশন’ স্লোগানে দৃষ্টিনন্দন প্যাভিলিয়ন তৈরি করেছিল। এ ছাড়া নেদারল্যান্ডসের সেন্টার ফর দ্য প্রমোশন অব ইমপোর্টস ফর ডেভেলপিং কান্ট্রিজ বা সিবিআই এবং সুইজারল্যান্ডভিত্তিক আইটিসি থেকে সর্বমোট ১০টি তথ্যপ্রযুক্তি-বিষয়ক বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠান। প্রতিষ্ঠানগুলো সুব্রা সিস্টেম, রয়েক্স টেকনোলজি, বিয়ন্ড ইনোভেশনন্স, বাংলাদেশ হাইটেক পার্ক কর্তৃপক্ষ, লিডস সফট, ডেটা সফট, ব্রেন স্টেশন ২৩, নেসেনিয়া, কাজ সফটওয়্যার ও বিভি ক্রিয়েটিভ।

Print
error: Content is protected !!